মৃত্যুর মুখে শৈশবের শিক্ষা: ‘কালেমা’ পাঠে বাঁচলেন অধ্যাপক ও পরিবার - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
আওয়ামী দোসরদের নতুন জোট এনডিএফ–এর আত্মপ্রকাশ তুরস্কের দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কুবির সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর কওমি ডিগ্রিধারীদের জন্য কাজী হওয়ার দরজা খুলল; আরও সরকারি খাত উন্মুক্তের দাবি সীমান্তে তীব্র গুলি বিনিময়, পাকিস্তান–আফগানিস্তান উত্তেজনা চরমে জাককানইবিতে সমুদ্র ও জলবায়ু–বিষয়ক ‘Exploring the Blue Earth’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত দুধকুমার নদে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে এসিল্যান্ডের হস্তক্ষেপ, স্বস্তিতে তীরবর্তী বাসিন্দারা ইবিতে জুলাই বিপ্লববিরোধী অভিযোগে ফের ৯ শিক্ষক বরখাস্ত নানিয়ারচর জোন (১৭ই বেংগল) এর মানবিক উদ্যো‌গে বিনামূল্যে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম নির্বাহী পরিচালক হলেন মো. সাদি উর রহিম জাদিদ আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে ইবিতে আলোচনা সভা

মৃত্যুর মুখে শৈশবের শিক্ষা: ‘কালেমা’ পাঠে বাঁচলেন অধ্যাপক ও পরিবার

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১৩৫ বার দেখা হয়েছে
মৃত্যুর মুখে শৈশবের শিক্ষা: ‘কালেমা’ পাঠে বাঁচলেন অধ্যাপক ও পরিবার
কাশ্মিরের পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার মুখে পড়ে প্রাণে বাঁচলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবাশিষ ভট্টাচার্য ও তাঁর পরিবার। শৈশবে মুসলিম পাড়ায় বড় হওয়ায় মুখে ‘কালেমা’ উচ্চারণ করতে পারতেন—এটাই শেষমেশ তাঁদের রক্ষা করে।

শিলচরের আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবাশিষ স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’ নামে পরিচিত বৈসারনে। গত মঙ্গলবার সেখানে পৌঁছানোর মাত্র ২০ মিনিট পরই শুরু হয় সন্ত্রাসী হামলা। তাঁদের চোখের সামনেই গুলি করে হত্যা করা হয় দু’জন পর্যটককে। আতঙ্কে পরিবারের সবাই একটি গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়েন।

স্মৃতি রোমন্থন করে দেবাশিষ জানান, সন্ত্রাসীরা তাঁদেরও হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য করে। একজন ব্যক্তি আদেশ অমান্য করায় তাঁকে সরাসরি গুলি করে হত্যা করা হয়। “তার রক্ত আমার গায়ে এসে পড়ে। তখন দেখি আশেপাশের লোকজন কালেমা পড়ছে। আমিও সঙ্গে সঙ্গে কালেমা পড়া শুরু করি,” বলেন অধ্যাপক।

এক সন্ত্রাসী তখন তাঁকে প্রশ্ন করে, “কিয়া বোল রাহে হো?” অর্থাৎ, ‘তুমি কী বলছ?’ দেবাশিষ জানান, “তারা আমাকে কিছু বলেনি, কিন্তু আমি জানতাম কালেমা কীভাবে পড়তে হয়। এই আয়াতগুলোই আমাদের প্রাণ বাঁচিয়েছে।”

হামলা থেমে গেলে দেবাশিষ ও তাঁর পরিবার পাশের জঙ্গলে পালিয়ে যান এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে পৌঁছান। পরে তাঁরা গাড়ি করে শ্রীনগরে ফিরে যান।

এই ঘটনার পর আসাম সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরিবারটি দিল্লি ও কলকাতা হয়ে শিলচরে ফিরবেন বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, এই হামলার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর নির্ধারিত আসাম সফর স্থগিত করা হয়েছে।

দেবাশিষ ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা ডাল লেকে একদিন চমৎকার সময় কাটিয়েছিলাম। কিন্তু এই হামলা আমাদের ভ্রমণের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। এটা ছিল দুঃসহ ও হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা।”

 

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT