চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৫০ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
আহতদের মধ্যে অনেকের মাথায় আঘাত লেগেছে, কারও হাত-পা ভেঙেছে, আবার কেউ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত ৫০ শিক্ষার্থীকে ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন বলেন, “চবির ৫০ শিক্ষার্থী ভর্তি আছেন। তাদের বেশিরভাগের মাথায় আঘাত। সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।”
চমেকে ভর্তি দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী চন্দনা রানি অভিযোগ করেন, “শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। মাথা থেকে প্রচুর রক্ত ঝরছে।” ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী শবনম বলেন, “আমাদের দিকে স্থানীয়রা একসাথে ইট ছুড়তে থাকে। মাথায় আঘাত পেয়ে চোখে অন্ধকার দেখি। পরে বন্ধুরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।”
চবি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ টিপু সুলতান জানান, “শতাধিক শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহতদের আমরা চমেকে পাঠিয়েছি। বেশির ভাগের মাথায় আঘাত।”
চমেক হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, শনিবার রাত ও রোববার দুপুর মিলিয়ে আহত হয়ে আসা শিক্ষার্থীদের ভিড়ে জরুরি বিভাগ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। দ্রুত তাদের সেলাই, এক্স–রে ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিক্ষার্থীদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, বারবার হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।