নোটিশ:
শিরোনামঃ
নগরের নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা জনস্বাস্থ্যনীতিরও অংশ ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ ধোঁয়াশা, সাত প্রদেশে শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত তিন লাখের বেশি নেপালের বন্যা পুনর্গঠনে জাতিসংঘ তহবিলের ২ কোটি ডলারের প্রাথমিক বরাদ্দ হরমুজ প্রণালিতে অক্টোবরে জাহাজে হামলার রেকর্ড, বাড়ছে নৌবাণিজ্যের ঝুঁকি ইউরোপের গ্রীষ্মের তাপে ৫০ হাজারের বেশি মৃত্যুর হিসাব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাডমিন্টন উন্নয়নে পাঁচ বছরের পরিকল্পনা, দেশে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের লক্ষ্য সুন্দরবনের প্রতিবেশে শিল্পকারখানার বায়ুদূষণ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাংলাদেশে ৬৩৬ কোটি ডলারের জাপানি বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনার খবর ডেঙ্গু প্রতিরোধে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ ডেঙ্গুতে আরও তিন মৃত্যু, এক দিনে হাসপাতালে ১২৯৯ রোগী

সংসদ হবে যুক্তি ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র—প্রথম অধিবেশনেই তারেক রহমানের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৩৯ বার দেখা হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুতে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন—জাতীয় সংসদকে তিনি দেশের সকল যুক্তি, তর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান। দীর্ঘ সময়ের ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ শেষে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের শুরুতেই ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

ভাষণে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না ও হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আবারও জনগণের ভোটে জবাবদিহিমূলক একটি সত্যিকারের জনপ্রতিনিধিত্বশীল জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হলো।

তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, তাঁর রহমতেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শহীদদের স্মরণ করেন। একইসঙ্গে তিনি সেইসব পরিবার, মা, সন্তান ও স্বজনদের কথা উল্লেখ করেন যারা এসব আন্দোলনে প্রিয়জন হারিয়েছেন বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ সমাজের সব স্তরের মানুষ গুম, খুন, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে দাঁড়ায়নি। তাদের সাহসী ভূমিকাতেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে।

ভাষণে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবদানও স্মরণ করেন। তারেক রহমান বলেন, দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু পরে সেটিকে প্রহসনে পরিণত করে সংসদকে অকার্যকর করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বেগম খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন এবং কখনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপস করেননি।

তারেক রহমান আরও বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাজনীতির মূল দর্শন ছিল—ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য ও সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার রাজনীতি। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

ভাষণের একপর্যায়ে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদকে জাতীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে। অতীতের মতো সংসদকে অকার্যকর বা প্রহসনে পরিণত হতে দেওয়া হবে না।

অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার উপস্থিত না থাকায় সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও পাঁচবারের সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এমন নজির আগেও রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT