নোটিশ:
শিরোনামঃ
নানিয়ারচরে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ দিল সেনাবাহিনী জ্বালানি স্থাপনায় যুদ্ধবিরতির দাবি ট্রাম্পের, হামলা অব্যাহত থাকার কথা কিয়েভের জ্বালানি মূল্য ও ঋণের চাপ সামনে রেখে ব্যাংককে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বৈঠক দেশে চিকিৎসার মান বাড়লে বিদেশমুখিতা কমবে: রাষ্ট্রপতি মেয়েশিশুর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যয় নিশ্চিতের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর আইটি, সার ও জ্বালানি খাতে জাপানের মারুবেনিকে বিনিয়োগের আহ্বান সমুদ্র, নদী ও স্থলবন্দরের সমন্বয়ে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন হচ্ছে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত, নিন্দা ঢাকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আঞ্চলিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের কথা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেঙ্গুর নতুন রূপে মৃত্যু বাড়ছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই প্রাণ হারাচ্ছেন বেশিরভাগ রোগী

সাবাস বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট সময় রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫৩ বার দেখা হয়েছে
Screenshot 2025-11-02 171002

রাজধানীর মিরপুরের গৃহবধূ সালমা বেগম (৩৫) প্রথমে হালকা জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খেয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও এক সপ্তাহ পর আবার জ্বর আসে। দ্রুত রক্তচাপ ও প্লাটিলেট কমে গিয়ে আইসিইউতে ভর্তি হন তিনি। টানা তিনদিন চেষ্টা করেও ৮ অক্টোবর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে মৃত্যুবরণ করেন।

একইভাবে প্রাণ হারান ডেমরার তিনবারের বিশ্বজয়ী হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী (২৫)। জ্বরের পর সামান্য উন্নতি দেখা দিলেও পরে জটিলতা দেখা দেয়। নারায়ণগঞ্জ থেকে স্থানান্তর করা হয় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, কিন্তু পরদিনই তিনি মারা যান।

চিকিৎসকদের মতে, এবারের ডেঙ্গু ভ্যারিয়েন্ট আগের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। দ্রুত “শক সিনড্রোম” দেখা দিচ্ছে এবং ফ্লুইড ব্যবস্থাপনায় সামান্য ভুলও প্রাণঘাতী হচ্ছে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. ইমরান হোসেন মালিথা বলেন, “এবারের ডেঙ্গু ভাইরাসের ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। তরুণরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। প্রথম ধাপের জ্বর চলে গেলে অনেকে অসচেতন হয়ে পড়ছেন, কিন্তু শরীরের ভেতরে প্লাটিলেট ও অক্সিজেন স্যাচুরেশন বিপজ্জনকভাবে কমে যাচ্ছে।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৭০,৫১৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, এর মধ্যে ২৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৫১ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো—৬৮ শতাংশ মৃত্যু ঘটছে হাসপাতালে ভর্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে, এবং ৪৬ শতাংশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ রোগীই দ্বিতীয়বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রথমবার সঠিকভাবে ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট না হলে পরবর্তী সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “রোগীরা এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোমে ভুগছেন, যা লিভার, কিডনি ও হৃদযন্ত্রকে একসঙ্গে আঘাত করছে। একবার শকে গেলে ফেরানো কঠিন।”

অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা জানা সম্ভব হচ্ছে না, কারণ ডেঙ্গু পরীক্ষার তথ্য সংরক্ষণের সফটওয়্যার প্রস্তুত থাকলেও এখনো চালু হয়নি।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, “ডেঙ্গুর আচরণ বদলে গেছে। তাই শহর থেকে গ্রাম—সব প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডেঙ্গু পরীক্ষার ব্যবস্থা জরুরি।”

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT