গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং ইসরায়েলের আরোপিত সমুদ্র অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক নৌবহর “গ্লোবাল সামুদ ফ্লোটিলা” যাত্রা শুরু করেছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, ৫০টিরও বেশি জাহাজ এ অভিযানে অংশ নিচ্ছে। বহরে রয়েছে খাদ্য, ওষুধ, পানি, চিকিৎসা সরঞ্জামসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং ৪৪টি দেশের মানবাধিকার কর্মী, চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবক।
৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে কয়েকটি জাহাজ ছাড়ার মধ্য দিয়ে এ অভিযাত্রা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এছাড়া ইতালি, গ্রীস ও টিউনিসিয়ার বন্দর থেকেও ধাপে ধাপে জাহাজ যোগ দিচ্ছে। আয়োজকরা একে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ মানবিক নৌ-অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, বহরের উদ্দেশ্য হলো গাজার জন্য একটি নিরাপদ মানবিক কোরিডোর নিশ্চিত করা।
ফ্লোটিলার জাহাজগুলোতে শিশুদের খাদ্য, দুধ, ডায়াপার, জরুরি ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র, সার্জিক্যাল কিটসহ চিকিৎসা সামগ্রী বহন করা হচ্ছে। আয়োজকদের ভাষ্য, এগুলো গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ে তাত্ক্ষণিক সহায়তা দেবে। বহরে কিছু পরিচিত আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বও অংশ নিয়েছেন, যাদের মধ্যে পরিবেশ আন্দোলনকারী ও মানবাধিকারকর্মী রয়েছেন।
গাজায় দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলের আরোপিত সমুদ্র অবরোধ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগে ২০১০ সালে ফ্লোটিলা অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়, যেখানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের জুনে “ম্যাডলিন” নামের একটি জাহাজ আটক করা হয়েছিল। এসব ঘটনার কারণে নতুন উদ্যোগটিতেও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, গাজায় সরাসরি সমুদ্রপথে প্রবেশ তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অবরোধ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করা অনৈতিক। এ কারণে ফ্লোটিলার যাত্রা সফল হলে তা আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াবে, আর বাধাপ্রাপ্ত হলে কূটনৈতিক সংকট নতুন মাত্রা পেতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠন, সিভিল সোসাইটি ও বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আন্দোলন ফ্লোটিলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে যাত্রাপথে জাহাজগুলোকে আটকানো বা বাধা দেওয়া হলে তা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই অভিযান সফল হলে গাজার জনগণের জন্য তা হবে বড় স্বস্তি, ব্যর্থ হলে আবারও মানবিক সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে।