অনলাইন এক্টিভিস্ট ও বিশ্লেষক পিনাকী চক্রবর্তী দাবি করেছেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের ওপর সাম্প্রতিক হামলা সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের পরিকল্পনায় হয়েছে। নিজের সাম্প্রতিক অনলাইন বক্তব্যে তিনি হামলার নেতৃত্ব, নূরের রাজনৈতিক অবস্থান এবং হামলার পেছনের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন।
পিনাকী জানান, নূরের ওপর হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন ১৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রকিব ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আফজালুর রহমান। তাদের ওপর থেকে নির্দেশনা এসেছিল নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আসাদের কাছ থেকে। তার অভিযোগ, এই হামলা শুধু নূরকে আহত করার জন্য নয়, বরং গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয় ভাঙচুর এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দমনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।
নূর বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পিনাকী বলেন, আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে, শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে নয়।
নূরের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও মন্তব্য করেন পিনাকী চক্রবর্তী। তিনি বলেন, নূর সবসময় সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ-জামানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, সেনাবাহিনী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অথচ সেই সেনাবাহিনীর মাধ্যমেই আজ তাকে মারাত্মকভাবে আঘাত করা হলো।
পিনাকীর মতে, এ হামলা ছিল সেনাবাহিনীর শক্তি প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার অংশ। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ও জামাত তাদের বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেছে। এতে বোঝা যায়, এই ঘটনা নিয়ে আরও গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ কাজ করছে।
পিনাকী চক্রবর্তী দাবি করেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা চলছে। আর এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নূরের ওপর হামলা ঘটানো হয়েছে। তিনি বলেন, “এটা শুধু নূরকে পেটানো না, এটা আমাদের গণস্বপ্নকে ভাঙার চেষ্টা।”
তিনি আহ্বান জানান, ভারতের স্বার্থরক্ষাকারী দল ও সহযোগী শক্তিগুলোকে নিষিদ্ধ করে বিএনপি, জামাত, এনসিপি ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন চালাতে হবে।