কুমিল্লা পলিটেকনিক থেকে গুগল - খালেদ বিন সাইফুল্লাহর অনুপ্রেরণামূলক জীবনযাত্রা - দৈনিক সাবাস বাংলাদেশ
নোটিশ:
শিরোনামঃ
মনোনয়ন বিতরণের শেষদিনে রাকসু কার্যালয়ে ভাঙচুর করল রাবি ছাত্রদল পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড ১২ কোটি ৯ লাখ টাকা তাসকিন–লিটনের ঝড়ে ডাচদের সহজে হারাল বাংলাদেশ, সিরিজে ১–০ নেতৃত্ব সাবেক ভিপি নুরের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ কেরালায় ক্যানারা ব্যাংকে গরুর মাংস নিষিদ্ধ, কর্মীদের ‘বিফ-ফেস্ট’ প্রতিবাদ ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম: জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধসহ তিন দফা দাবিতে গণঅধিকার পরিষদের হুঁশিয়ারি ভিপি নূরের ওপর হামলা সেনা নেতৃত্বে: পিনাকী যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা: ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের জাতিসংঘে যোগ দেওয়ার পথ বন্ধ নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানের দাবিতে ইবিতে ছাত্রশিবিরের মানববন্ধন কিশোরগঞ্জ পাগলা মসজিদের দানবাক্সতে ৩২ বস্তা টাকা ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা সহ নানান চিরকুট

কুমিল্লা পলিটেকনিক থেকে গুগল – খালেদ বিন সাইফুল্লাহর অনুপ্রেরণামূলক জীবনযাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫
  • ৫৮ বার দেখা হয়েছে

কুমিল্লার ছোট শহরের সাধারণ পরিবেশ থেকে শুরু হওয়া একটি স্বপ্নপূরণের গল্প আজ আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচিত হচ্ছে। খালেদ বিন সাইফুল্লাহ, যিনি কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে পড়াশোনা করেছিলেন, আজ বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানি গুগলে টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে সফলতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তার এই যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়, বরং বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুপ্রেরণা, যে কোনো সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে স্বপ্নপূরণের প্রমাণ।

ডিপ্লোমা অর্জনের পর খালেদ উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, যেখানে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়াশোনা শুরু করেন। উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি, যা BTEB (বাংলাদেশ টেকনিক্যাল এডুকেশন বোর্ড) গ্র্যাজুয়েটদের মূলধারার উচ্চশিক্ষায় সুযোগ দিচ্ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে খালেদ শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করেননি, বরং দলগত কাজের মানসিকতা, যোগাযোগের দক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষমতাও শিখেছেন। লাইব্রেরির নীরবতা, চায়ের দোকানের বন্ধুসঙ্গী আলোচনা, প্রজেক্ট ও ল্যাবের সময়কালে একসাথে শেখার মুহূর্ত—এসবই তার মানসিক দৃঢ়তা ও মনোবল গড়ে তুলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় খালেদ নিজেকে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সফট স্কিলের দিকে মনোনিবেশ করতে শিখেছিলেন। তিনি জানান, “কেবল কোডিং বা প্রযুক্তিগত জ্ঞান যথেষ্ট নয়। দলের সঙ্গে কাজ করা, অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া—এসবই বড় প্রতিষ্ঠানে সফল হতে সাহায্য করে।” এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের প্রতিটি পদক্ষেপে তাকে সমর্থন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শেষ হওয়ার পর খালেদ তার পেশাগত যাত্রা শুরু করেন। প্রথমে তিনি ওয়েলস ফার্গোতে যোগ দেন, যেখানে তিনি প্রযুক্তিগত কাজের সঙ্গে দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি জনসন অ্যান্ড জনসন এবং সিগনা-র মতো প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাকে নতুন দিক শেখায়, নতুন চ্যালেঞ্জের সঙ্গে মোকাবিলা করার কৌশল শিখায়। এই সময়ে তিনি বুঝতে পারেন যে শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত দক্ষতাই নয়, মানসিক স্থিতিস্থাপকতা, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাসই বড় প্রতিষ্ঠানগুলিতে স্থায়ীভাবে সফল হওয়ার মূল চাবিকাঠি।

অবশেষে, দীর্ঘ অধ্যবসায় ও প্রয়াসের পর খালেদ স্বপ্নপূরণ করেন এবং গুগলে টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। তিনি বলেন, “আমার যাত্রা প্রমাণ করে যে ব্যর্থতাকে ভয় পাওয়ার কারণ নয়, এটি শেখার সুযোগ। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন, কঠোর পরিশ্রম করুন, এবং শেখার আগ্রহ ধরে রাখুন।” খালেদ আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অভিজ্ঞতা তার পেশাগত দক্ষতার ভিত্তি তৈরি করেছে। বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়, লাইব্রেরিতে অতিবাহিত ঘণ্টা, ল্যাব ও প্রজেক্টের চাপ—এসবই তার চরিত্র ও মানসিক দৃঢ়তা গড়ে তুলেছে।

খালেদের গল্পে দেখা যায় যে শিক্ষাজীবনের প্রতি মনোযোগ, আত্মনির্ভরশীলতা এবং সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া একজন সাধারণ ছাত্রকেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দিতে পারে। তার জীবনগল্প বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার নিদর্শন। তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেন, “নিজেকে বিশ্বাস করুন, শেখার আগ্রহ বজায় রাখুন, সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন। ব্যর্থতা আপনাকে শেখায়, যা ভবিষ্যতের সফলতার পথ তৈরি করে।”

খালেদ বিন সাইফুল্লাহর জীবনের প্রতিটি ধাপের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অধ্যবসায়, বন্ধুত্ব, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস। তার ক্যাম্পাস জীবনের স্মৃতিচারণে দেখা যায় লাইব্রেরির নীরবতা, চায়ের দোকানের বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ, প্রজেক্টে রাত জেগে কাজ করার স্মৃতি এবং একে অপরকে সমর্থন করার মুহূর্ত—এসবই তার ব্যক্তিত্ব ও কর্মদক্ষতার মূল শক্তি।

শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT