ডেনভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার (২৬ জুলাই) ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিল আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৩০২৩। বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ মডেলের বিমানটি ডেনভার থেকে মিয়ামি যাওয়ার জন্য উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। রানওয়ে দিয়ে ছুটতেই হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের শব্দ হয়, মুহূর্তেই দেখা যায় ধোঁয়া ও আগুন। ল্যান্ডিং গিয়ারের টায়ার ফেটে এ আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় বিমানে থাকা ১৭৩ যাত্রী এবং ৬ জন ক্রু সদস্যসহ মোট ১৭৯ জনকে দ্রুততার সঙ্গে সরিয়ে আনা হয়। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার থেকে পাইলটকে সরাসরি সতর্ক করে বলা হয়—“Your aircraft is on fire”—বলার সঙ্গে সঙ্গেই জরুরি স্লাইড খুলে যাত্রীদের বের করে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তীব্র ধোঁয়ার মধ্যে যাত্রীরা দৌড়ে নিরাপদ স্থানে ছুটে যান। যাত্রীদের একজন জানান, তারা হঠাৎই বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনতে পান, এরপর বিমানের একপাশে ধোঁয়া দেখতে পান, তখনই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি দেখতে ভিজিট করুন সাবাস বাংলাদেশ এর ফেসবুক পেইজ
ডেনভার ফায়ার ডিপার্টমেন্ট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন নিভিয়ে বিমানটিকে রানওয়ে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কারিগরি বিশ্লেষণের জন্য হ্যাঙ্গারে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং একজন যাত্রীকে সামান্য আঘাতের কারণে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টায়ারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় এমন ঘটনা ঘটে। তবে বিমানের ইঞ্জিন বা কাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। যাত্রীদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয় এবং কোম্পানির পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, এই ঘটনাকে ‘সিরিয়াস ইনসিডেন্ট’ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রানওয়ে ঘর্ষণে অতিরিক্ত চাপ পড়ে টায়ারটি ফেটে যায় এবং আগুন ধরে। তবে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আসা না পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
ঘটনার কারণে শনিবার ডেনভার বিমানবন্দরের প্রায় ৩০০টির বেশি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বিলম্বে ছাড়ে। তবে রাতের মধ্যেই বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে আসে।
উল্লেখযোগ্য যে, চলতি বছরের মার্চ মাসেও আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইঞ্জিন সমস্যা দেখা দেওয়ায় একই বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে হয়েছিল। সেই ঘটনায়ও তদন্তে দেখা যায়, ইঞ্জিনের কিছু পার্ট ভুলভাবে সংযুক্ত করা হয়েছিল এবং তাতে জ্বালানি লিক করেছিল।
টানা কয়েক মাসের ব্যবধানে একই রকম বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একাধিকবার এমন দুর্ঘটনা একই এয়ারলাইন্সে ঘটায় এটি নিছক দুর্ঘটনা না হয়ে ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির প্রতিফলন হতে পারে।
বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে ডেনভার ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক সাড়া, যাত্রীদের জীবন রক্ষা করেছে ঠিকই, কিন্তু এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এখনই আমেরিকান এয়ারলাইন্স ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উচিত কঠোর তদন্তের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিশ্চিত করা। কারণ আকাশে ভরসার আরেক নাম ‘নিরাপত্তা’। যাত্রীদের জীবনের প্রশ্নে একটুও শৈথিল্য যেন ক্ষমার অযোগ্য না হয়।