চীনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, শনিবার (২০ জুলাই) ইয়ারলুং সাংপো নদীতে বাঁধ নির্মাণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।
তিব্বতের মালভূমি থেকে উৎপন্ন এ নদীটি ভারত ও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে নদীর গতিপথে বাঁধ দেওয়া হলে তা এই অঞ্চলগুলোর লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবিকা, পরিবেশ এবং তিব্বতীয়দের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মহল।
চীনা কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পরিবেশগত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মোটুও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নামের এ প্রকল্পটির ব্যয় ১২ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ১.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এটি সম্পন্ন হলে বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম বাঁধ হিসেবে পরিচিত থ্রি জর্জেস বাঁধকেও ছাড়িয়ে যাবে এবং প্রায় তিনগুণ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে।
বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এই বাঁধ চীনকে ইয়ারলুং সাংপো নদীর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নদীর প্রবাহ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা দেবে। যা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও আসাম রাজ্য এবং বাংলাদেশের ওপর, যেখানে নদীটি ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লোই ইনস্টিটিউট ২০২০ সালের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, তিব্বতের নদীগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ চীনকে ভারতের অর্থনীতির ওপর কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেবে।
এছাড়া, অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু সম্প্রতি পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বাঁধটি চালু হলে সিয়াং ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানির প্রবাহ অনেক কমে যেতে পারে।
বাংলাদেশও চীনকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার পক্ষ থেকে বেইজিংকে একটি চিঠি পাঠিয়ে প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়।
তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নদীর উজানে বাঁধ নির্মাণে তাদের পূর্ণ অধিকার রয়েছে এবং তারা ভাটির দেশগুলোর প্রভাব বিবেচনায় নিয়েই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।