নোটিশ:
শিরোনামঃ
নিজেকে বিয়ে করেছিলেন, এক বছর পর ‘নিজেকেই ডিভোর্স’ দিলেন সুয়েলেন কেরি চশমায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছোঁয়া: সুবিধা, নাকি গোপন নজরদারির ঝুঁকি? অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদে কুবি শিক্ষক সমিতির শোক র‍্যালি ও মানববন্ধন কুবিতে অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে এখনই সুরক্ষা পরিকল্পনা দরকার পোশাক কারখানা শীতল রাখার বিনিয়োগ চার বছরের মধ্যে উঠে আসতে পারে: গবেষণা জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ ১৭.৪% বাড়ল, ডিজেল লিটারে ১৩৫ টাকা জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী হেলথ এশিয়া কনফারেন্সে আন্তর্জাতিক বক্তা তানহা তাবাসসুম ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মৌসুমি অভিযান নয়, বছরজুড়ে প্রস্তুতি চাই

দুই মাদরাসাছাত্রের বিরল কীর্তি – মাত্র ৮ মাসে মুখস্থ করলেন সহীহ বুখারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৩০৯ বার দেখা হয়েছে
মাসউদুর রহমান, হাসনাইন সারোয়ার

নারায়ণগঞ্জের আল মারকাজুল ইসলামী মাদরাসার শিক্ষার্থী মাসউদুর রহমান ও হাসনাইন সারোয়ার পুরো সহীহ বুখারী মুখস্থ করেছেন—যা বর্তমান সময়ে এক অনন্য ঘটনা।

ইসলামের ইতিহাসে সাহাবা, তাবে-তাবেইন এবং পরবর্তী যুগের আলেমরা লক্ষ লক্ষ হাদীস মুখস্থ করার মাধ্যমে অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। তবে সময়ের সাথে সাথে হাদীস মুখস্থের সেই ধারা প্রায় বিলুপ্তির পথে। বর্তমান সময়ে যেখানে হাদীস মুখস্থের প্রবণতা খুবই কম, সেখানে বিরল কীর্তি গড়েছেন দুই কওমি মাদ্রাসাছাত্র। তারা দুজনই পুরো সহীহ বুখারী মুখস্থ করেছেন।

মুখস্থকারী দুই ছাত্র হলেন:

  • মো. মাসউদুর রহমান, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার তারাটি চরপাড়া গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে।

  • হাসনাইন সারোয়ার, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার ইন্দা গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে।

তারা দুজনেই পড়াশোনা করছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানার পানাম সিটি সংলগ্ন বাগমুছা এলাকার আল মারকাজুল ইসলামী মাদ্রাসায়। মাসউদুর রহমান ‘হিফজুল হাদীস’ বিভাগে এবং হাসনাইন সারোয়ার ‘উলুমুল হাদীস’ বিভাগে অধ্যয়নরত। তাদের মধ্যে মাসউদুর রহমান মাত্র ৮ মাস ৯ দিনে এবং হাসনাইন সারোয়ার ৮ মাস ৭ দিনে সহীহ বুখারী হিফজ সম্পন্ন করেন।

অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে মাসউদুর রহমান বলেন, শৈশবে নুরানী ক্লাসে পড়ার সময় ৪০টি হাদীস মুখস্থ করার মাধ্যমে তাঁর মধ্যে হাদীসের প্রতি গভীর ভালোবাসা জন্ম নেয়। পরবর্তীতে উস্তাদদের উৎসাহে তিনি সহীহ বুখারী মুখস্থের সংকল্প নেন এবং আল্লাহর মেহেরবানিতে সফল হন। তাঁর মতে, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জালালাইন জামাত থেকে বুখারী হিফজ শুরু করলে সহজেই এটি সম্পন্ন করা সম্ভব।

অন্যদিকে হাসনাইন সারোয়ার বলেন, প্রাথমিক ক্লাস থেকেই হাদীস মুখস্থের অভ্যাস গড়ে ওঠে তাঁর। বড় ভাই মুফতি শফিউল্লাহর প্রেরণা এবং মুহাদ্দিসদের জীবনী পড়া তাঁকে সহীহ বুখারী মুখস্থের সাহস জুগিয়েছে। তিনি মনে করেন, আগ্রহ থাকলে হাদীস মুখস্থ করা কঠিন কিছু নয়।

তাদের মতে, পূর্ববর্তী যুগে আলেমরা লক্ষ লক্ষ হাদীস মুখস্থ করতেন, অথচ বর্তমানে এ ধারাটি প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। তাই সহীহ বুখারী মুখস্থ করতে পারায় তারা আল্লাহর দরবারে শোকর আদায় করেছেন। দুই শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, হাদীসের খেদমতে জীবন উৎসর্গ করা, মানুষের হেদায়েতের পথপ্রদর্শক হওয়া এবং সর্বোপরি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT