নোটিশ:
শিরোনামঃ
নিজেকে বিয়ে করেছিলেন, এক বছর পর ‘নিজেকেই ডিভোর্স’ দিলেন সুয়েলেন কেরি চশমায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ছোঁয়া: সুবিধা, নাকি গোপন নজরদারির ঝুঁকি? অপ্রতিম হত্যার প্রতিবাদে কুবি শিক্ষক সমিতির শোক র‍্যালি ও মানববন্ধন কুবিতে অপ্রতিম হত্যার বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে এখনই সুরক্ষা পরিকল্পনা দরকার পোশাক কারখানা শীতল রাখার বিনিয়োগ চার বছরের মধ্যে উঠে আসতে পারে: গবেষণা জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ ১৭.৪% বাড়ল, ডিজেল লিটারে ১৩৫ টাকা জাতিসংঘে প্রথম ভাষণ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী হেলথ এশিয়া কনফারেন্সে আন্তর্জাতিক বক্তা তানহা তাবাসসুম ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মৌসুমি অভিযান নয়, বছরজুড়ে প্রস্তুতি চাই

সিঙ্গাপুরে চীনা হ্যাকারদের ভয়াবহ সাইবার হামলা, হুমকির মুখে জাতীয় নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫
  • ২৩৮ বার দেখা হয়েছে
Singapore Minister
জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সমন্বয় মন্ত্রী কে. শানমুগম বলেছেন, সিঙ্গাপুর এখন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত সাইবার হ্যাকারদের (এপিটি) কাছ থেকে গুরুতর হুমকির মুখে রয়েছে।

সিঙ্গাপুর এখন একটি ভয়াবহ সাইবার হামলার কবলে। দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—যেমন বিদ্যুৎ, পানি, হাসপাতাল, টেলিকম, ব্যাংকিং, পরিবহণ এবং বিমানবন্দর—এই মুহূর্তে একটির পর একটি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

এই হামলার পেছনে রয়েছে UNC3886 নামের একটি সুপরিচিত হ্যাকার গ্রুপ, যাদের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। গুগলের মালিকানাধীন সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ম্যান্ডিয়্যান্ট (Mandiant) UNC3886-কে “চীন-সম্পৃক্ত গুপ্তচরবৃত্তি চালানো দল” হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

শুক্রবার রাতে সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা সমন্বয় মন্ত্রী কে. শানমুগম এক বক্তৃতায় স্পষ্টভাবে জানান, “আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, হামলাটি গুরুতর এবং এখনো চলছে। UNC3886 আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় একের পর এক আঘাত হানছে।”

এই হামলাকে বলা হচ্ছে ‘অ্যাডভান্সড পারসিস্টেন্ট থ্রেট’ (APT)—অর্থাৎ, এমন এক ধরনের সাইবার আক্রমণ যেটি দীর্ঘমেয়াদে চলতে পারে এবং যাদের পেছনে থাকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা। এ ধরনের হ্যাকারদের মূল লক্ষ্য হলো—গোপন তথ্য চুরি করে নেওয়া এবং একযোগে আক্রমণ চালিয়ে পুরো দেশের জরুরি পরিষেবা অচল করে দেওয়া।

শানমুগম বলেন, “যদি UNC3886 সফল হয়, তাহলে শুধু তথ্য চুরি নয়, গুপ্তচরবৃত্তি থেকে শুরু করে বড় ধরনের বিপর্যয়ও ডেকে আনতে পারে। যেমন—বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিকল হলে হাসপাতাল বা গণপরিবহণ বন্ধ হয়ে যাবে, ব্যাংক ও বিমানবন্দর থেমে যাবে, পুরো অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়বে।”

মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা (CSA) ও অন্যান্য প্রশাসনিক ইউনিট মিলে হামলাটি ঠেকানোর চেষ্টা করছে। তবে পরিস্থিতি খুবই জটিল ও সংবেদনশীল।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরে সন্দেহভাজন APT হামলার সংখ্যা আগের তুলনায় চার গুণেরও বেশি বেড়েছে। এমনকি ২০১৮ সালে একবার সিঙ্গাপুরের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানেও সাইবার হামলা হয়েছিল, যেখানে ১ লাখ ৬০ হাজার রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য চুরি হয়। আক্রান্তদের মধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং-এর নামও ছিল।

মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান Tenable-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক সাতনাম নারাং বলেন, “এপিটি হ্যাকাররা যেভাবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের অবকাঠামো টার্গেট করছে, তা বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের সতর্কবার্তা।” তিনি আরও বলেন, “এমন ছায়ার আড়ালে থাকা প্রতিপক্ষকে থামানো এখন অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কারণ প্রতিরক্ষার যে আইটি কাঠামো গড়ে তুলতে হয়, তা দিন দিন আরও জটিল আর বিস্তৃত হয়ে পড়ছে।”

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সাইবার হুমকির মাঝে সিঙ্গাপুরের এই চলমান আক্রমণ আরও একবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—ডিজিটাল নিরাপত্তা এখন শুধু আইটি বিষয় নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার মূল স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT