নোটিশ:
শিরোনামঃ
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়নে চাই গবেষণা ও দক্ষতার সেতুবন্ধ এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে প্রবাসী দক্ষতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ লন্ডনে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’: প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক মিলনমেলা প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি: পরিবারগুলোর প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য কাতারের উত্তরে ট্যাংকারে দুটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাত: ইউকেএমটিও আশুলিয়ায় বেতন আন্দোলনে শতাধিক পোশাক কারখানার কার্যক্রম স্থগিত প্রবাসী আয় ১৪.২ শতাংশ বেড়ে ১২.১১ বিলিয়ন ডলার: বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, বৈশ্বিক বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের চাহিদা বছরে ৩০৫ বিলিয়ন ডলার: জাতিসংঘ জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের বিশাল ঘাটতি: প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ পালিত

মাহমুদা নাঈমা জাককানইবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৪৯ বার দেখা হয়েছে
received_25576002502031575

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতায় পালিত হলো ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৫’।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর ২০২৫) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম কালো ব্যাজ ধারণ করে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী কালো পতাকা উত্তোলন করেন।

এরপর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে ‘চির উন্নত মম শির’ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উপাচার্য। এরপর হল প্রভোস্ট ও শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি সম্মান জানানো হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আজ ১৪ ডিসেম্বর, শোকের দিন। ৫৪ বছর আগে চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে এ দেশের সূর্যসন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তবে দীর্ঘ নয় মাস ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজ নিজ ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তিদের এ দেশের দোসর ও আন্তর্জাতিক সহায়তায় হত্যা করা হয়েছে। আমাদের সেই ক্ষত এখনো পূরণ হয়নি। সেই বুদ্ধিজীবীরা বেঁচে থাকলে দেশ আরও এগিয়ে যেত।”

তিনি আরও বলেন, “বিভাজন ও অনৈক্য এখনো সমাজে বিরাজমান। আমরা আমাদের বিবেক হারিয়ে ফেলেছি। ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতায় আমরা মেতে উঠেছি। সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ মানেই যেকোনো উপায়ে ধনী হওয়া—এই ধারণা তৈরি হয়েছে। পরিবারগুলোও সন্তানদের শিক্ষা শেষে কীভাবে বেশি আয়ের চাকরি পাওয়া যাবে, সেই চিন্তায় মগ্ন। বিবেকবোধ জাগ্রত করে সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়ন ঘটলেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।”

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, “শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। চারবার তালিকা প্রকাশ করেও সঠিক সংখ্যা বের করা যায়নি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হিসাবে শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা ৫৬০ জন। যারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ যত দিন থাকবে, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস তত দিন থাকবে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই তাঁদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।”

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার। স্বাগত বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান। সভায় সভাপতিত্ব করেন শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এইচ এম কামাল।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. তুষার কান্তি সাহা এবং দোলন-চাঁপা হলের প্রভোস্ট উম্মে ফারহানা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অগ্নিবীণা হলের প্রভোস্ট মো. হারুনুর রশিদ।সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, বিভিন্ন হলের প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT