
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভুটানের প্রথম পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট চালান ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় আটকে আছে। বাংলাদেশ হয়ে ভারতের সড়কপথ ব্যবহার করে ভুটানে যাওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় কনটেইনারটি তিন দিন ধরে বন্দরের ইয়ার্ডেই পড়ে রয়েছে। ভারতীয় চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় অনুমোদন না পাওয়ায় ট্রানজিট কার্যক্রম সামনে এগোয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককের আবিত ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের পাঠানো ছয় ধরনের ভুটানের আমদানিকৃত পণ্য—ফল, জুস, জেলি, শুকনো ফল, লিচু-স্বাদের ক্যান্ডি ও শ্যাম্পু—৮ সেপ্টেম্বর ল্যাম চ্যাবাং বন্দর থেকে রওনা দিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে পৌঁছায়। বাংলাদেশ–ভুটান প্রটোকল অনুযায়ী পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এনএম ট্রেডিং করপোরেশন প্রথম চালানটি বুড়িমারী স্থলবন্দরে নিয়ে আসে।
এরপর ২৮ ও ২৯ নভেম্বর বুড়িমারীর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বেনকো লিমিটেড চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে কনটেইনারটি ভারতে প্রবেশ করাতে একাধিকবার চেষ্টা করলেও অনুমতি মেলেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে ভারতের সড়কপথ হয়ে ভুটানে পণ্য পরিবহনের জন্য যে নির্দিষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন, চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ তা এখনো পায়নি। ফলে ট্রানশিপমেন্ট কনটেইনারটি গাড়িসহ বুড়িমারী বন্দরে অবস্থান করছে।
বুড়িমারী সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও বেনকো লিমিটেডের প্রোপাইটর ফারুক হোসেন বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে আনা ভুটানের পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট চালান এখনও বুড়িমারীতেই আছে। ভারত অনুমোদন দেয়নি, তাই পাঠানো সম্ভব হয়নি। অনুমতি পেলেই চালানটি ভুটানে যাবে।”
বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসান জানান, শনিবার থেকেই ট্রানশিপমেন্ট কনটেইনারটি বন্দরের মাঠে রয়েছে। বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার দেলোয়ার হোসেন বলেন, “ভুটানের চালানের কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। ভারতীয় কাস্টমস অনুমতি দিলেই পণ্য ভুটানের দিকে পাঠানো হবে।”