নোটিশ:
শিরোনামঃ
লন্ডনে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’: প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক মিলনমেলা প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি: পরিবারগুলোর প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য কাতারের উত্তরে ট্যাংকারে দুটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাত: ইউকেএমটিও আশুলিয়ায় বেতন আন্দোলনে শতাধিক পোশাক কারখানার কার্যক্রম স্থগিত প্রবাসী আয় ১৪.২ শতাংশ বেড়ে ১২.১১ বিলিয়ন ডলার: বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, বৈশ্বিক বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের চাহিদা বছরে ৩০৫ বিলিয়ন ডলার: জাতিসংঘ জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের বিশাল ঘাটতি: প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ডিসেম্বর থেকে পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরিকাঠামো, বৃদ্ধির অঙ্ক এখনো নির্ধারিত নয়

চীন থেকে ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, চুক্তির মূল্য ২.২ বিলিয়ন ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭০১ বার দেখা হয়েছে
Chinese-10c fighter jet

চীন থেকে ২০টি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ, চুক্তির মূল্য ২.২ বিলিয়ন ডলার
— বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি

বাংলাদেশ সরকার চীন থেকে ২০টি চেংদু জে-১০সিই মাল্টি-রোল যুদ্ধবিমান কেনার উদ্যোগ নিয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ২৭ হাজার ৬০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিমানবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় থাকবে বিমান ক্রয়, পাইলট ও প্রকৌশলী প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং লজিস্টিক সাপোর্ট। প্রস্তাবটি ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং অর্থপ্রদান ধাপে ধাপে ২০৩৫–৩৬ অর্থবছর পর্যন্ত চলবে। চুক্তিটি সরাসরি ক্রয় বা সরকার-টু-সরকার (G2G) ব্যবস্থায় হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

চীনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান হলো জে-১০সি মডেলের রপ্তানি সংস্করণ, যা বর্তমানে পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স ব্যবহার করছে। প্রতিটি বিমানের মূল্য প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার ধরা হলেও প্রশিক্ষণ, যন্ত্রাংশ, পরিবহন, ভ্যাট ও বীমাসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে পুরো প্যাকেজের মোট মূল্য দাঁড়াবে ২.২ বিলিয়ন ডলার। এটি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ ক্রয় চুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

চুক্তির প্রস্তুতি তদারকিতে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত মার্চে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের চীন সফরকালে বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় আসে এবং চীনের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়।

জে-১০সিই হলো চতুর্থ প্রজন্মের মাল্টি-রোল জেট, যা বায়ু থেকে বায়ু ও বায়ু থেকে স্থল আক্রমণ উভয় ক্ষেত্রে সক্ষম। এতে রয়েছে আধুনিক অ্যাকটিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রাডার, উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র PL-15 বহনের ক্ষমতা। এই জেটগুলো বাংলাদেশের পুরোনো এফ-৭ সিরিজের বিমান প্রতিস্থাপন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্রয় বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় একটি বড় অগ্রগতি আসবে। ভারতের রাফায়েল ও মিয়ানমারের সু-৩০ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় এটি ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন। তবে ২.২ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ও বাজেট ব্যালান্সে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন।

বিমানবাহিনীর আধুনিকীকরণে এই প্রকল্পকে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সঠিক বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারলে এটি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT