নোটিশ:
শিরোনামঃ
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির স্বপ্ন বাস্তবায়নে চাই গবেষণা ও দক্ষতার সেতুবন্ধ এআই ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে প্রবাসী দক্ষতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ লন্ডনে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’: প্রবাসীদের সাংস্কৃতিক মিলনমেলা প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি: পরিবারগুলোর প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য কাতারের উত্তরে ট্যাংকারে দুটি অজ্ঞাত বস্তুর আঘাত: ইউকেএমটিও আশুলিয়ায় বেতন আন্দোলনে শতাধিক পোশাক কারখানার কার্যক্রম স্থগিত প্রবাসী আয় ১৪.২ শতাংশ বেড়ে ১২.১১ বিলিয়ন ডলার: বাংলাদেশ ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, বৈশ্বিক বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের চাহিদা বছরে ৩০৫ বিলিয়ন ডলার: জাতিসংঘ জলবায়ু অভিযোজন অর্থায়নের বিশাল ঘাটতি: প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে

কুমিল্লায় প্রথমবার সফল অঙ্গ প্রতিস্থাপন – পায়ের আঙুলে ফিরলো হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫
  • ২২৬ বার দেখা হয়েছে
কুমিল্লায় অঙ্গ প্রতিস্থাপন

দেশের স্বাস্থ্যসেবায় এক অনন্য দিগন্তের সূচনা করল কুমিল্লার একটি জেলা হাসপাতাল। প্রবাসে দুর্ঘটনায় আঙুল হারানো এক বাংলাদেশির হাতে সফলভাবে পায়ের আঙুল প্রতিস্থাপন করে চিকিৎসকরা দেখিয়ে দিলেন—জটিল অস্ত্রোপচার আর শুধু রাজধানী বা বিদেশের আশ্রয় নয়, এখন জেলা শহরেও তা সম্ভব। কুমিল্লার পিপলস হাসপাতালে এই সফল অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন ডা. কামরুল ইসলাম মামুন। তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের চিকিৎসক দল টানা সাত ঘণ্টা অপারেশন করে রোগীর বাম পায়ের দ্বিতীয় আঙুল এনে তা বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের জায়গায় প্রতিস্থাপন করেন। অপারেশনের পর আঙুলে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক আছে এবং নার্ভও সচল রয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

প্রতিস্থাপন করা রোগী আশরাফুল আলম, পেশায় একজন গাড়িচালক। ২০২৪ সালে সৌদি আরবে একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই থেকেই কর্মক্ষমতা হারিয়ে দেশে ফিরে চিকিৎসার জন্য এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরে বেড়ান। কেউ বলেছে হাত কেটে ফেলতে হবে, কেউ আবার বিদেশে ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে আশাহত আশরাফুল অবশেষে কুমিল্লার পিপলস হাসপাতালে এসে আশার আলো দেখতে পান। চিকিৎসকরা তাকে ৫০ শতাংশ সফলতার নিশ্চয়তা দিয়ে অস্ত্রোপচারে রাজি করান। তার পরের গল্প শুধু চিকিৎসা নয়, এটি সাহস ও সক্ষমতার জয়।

অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার পর ডা. কামরুল ইসলাম মামুন বলেন, কুমিল্লায় এই প্রথম শরীরের এক অংশ থেকে অন্য অংশে অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হলো। এর আগে বিচ্ছিন্ন অঙ্গ জোড়া লাগানোর ঘটনা থাকলেও এই রকম অভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রতিস্থাপন ছিল নজিরবিহীন। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ একটি অপারেশন। ধাপে ধাপে আঙুল শরীরের সাথে খাপ খাওয়ানো হচ্ছে। সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে কিছু সপ্তাহ সময় লাগবে।’

এই সাফল্যকে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কাউছার হামিদ। তিনি বলেন, ‘জেলা শহরের হাসপাতালগুলোতে সাধারণত এমন অপারেশন হয় না। কিন্তু এখন যদি চিকিৎসকরা এভাবে উদ্যোগ নেন, তাহলে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে বসেই জটিল চিকিৎসাসেবা পাওয়া সম্ভব।’

অস্ত্রোপচারের পর আশরাফুল আলম বলেন, ‘আমি সৌদি আরবে ও দেশে বহু জায়গায় গিয়েছি। সবাই বলেছে বিদেশে গেলে কোটি টাকা খরচ করলেও এই চিকিৎসা সম্ভব হবে কিনা গ্যারান্টি নেই। কুমিল্লায় এসে আমার মতো গরিব মানুষের এ রকম চিকিৎসা হবে, তা ভাবিনি। আমার জীবন থেমে গিয়েছিল। এখন আবার নতুন করে বাঁচার আশা ফিরে পেয়েছি।’

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমদ এই ঘটনার মূল্যায়ন করে বলেন, ‘জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এ ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যসেবায় একটি মাইলফলক। এতে বিদেশ নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনি চিকিৎসার ব্যয়ও অনেক কমে আসবে।’ তিনি মনে করেন, দেশের অন্যান্য জেলা শহরেও যদি এমন উদ্যোগ ও দক্ষতা তৈরি হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।

বাংলাদেশে কিডনি, লিভার বা বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন নিয়ে কিছু নজির থাকলেও হাত বা আঙুল প্রতিস্থাপনের মতো জটিল মাইক্রো-সার্জারি জেলা পর্যায়ে এই প্রথম ঘটল। সাধারণত রাজধানী বা বিদেশেই এসব চিকিৎসা সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু কুমিল্লার এই অপারেশন দেখিয়ে দিল, যোগ্যতা ও প্রযুক্তি থাকলে জেলা শহরেই সম্ভব নতুন দিগন্তের সূচনা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT