রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আজ শনিবার ১৯ জুলাই দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় মহাসমাবেশ। সাত দফা দাবিকে সামনে রেখে আয়োজিত এ সমাবেশকে ঘিরে ইতোমধ্যেই ঢাকায় এবং সারাদেশে তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উদ্দীপনা। আয়োজক দলটির দাবি, এটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক জমায়েত—যেখানে অংশ নেবে অন্তত ১০ লক্ষাধিক মানুষ।
সমাবেশে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মী-সমর্থকেরা দলবেঁধে রওনা হয়েছেন। কেউ এসেছেন বাসে, কেউ বিশেষ ট্রেনে, কেউবা নদীপথে লঞ্চে। কারো হাতেই নেই শ্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড, কেউ করছেন না হইচই। বরং তাদের ব্যাগে রয়েছে জায়নামাজ, শুকনো খাবার আর পানির বোতল। কুমিল্লা, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চল থেকে আসা জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা দলে দলে ঢাকামুখী হচ্ছেন সুশৃঙ্খলভাবে।
ঝালকাঠি থেকে লঞ্চে আসা অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, “লঞ্চে একটিও উচ্চস্বরে কথা হয়নি, কেউ ধূমপান করেনি, কেউ তাস খেলেনি। বরং সবাই নীরব, প্রার্থনাময় পরিবেশে চলেছে। নিজেদের খরচে, নিজেরা দায়িত্ব নিয়ে এসেছেন।” কুমিল্লা থেকে আসা আবির রহমান বলেন, “আমরা গতরাতেই রওনা হয়েছি। মহাসমাবেশ শেষ না হওয়া পর্যন্ত থাকব ইনশাআল্লাহ। সংগঠন থেকে অর্থ নেইনি, বরং কেউ কেউ স্বেচ্ছায় অন্য ভাইদের খরচও বহন করেছেন।”
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবেশ সফল করতে সারাদেশে ১০ হাজারের বেশি বাস, বিশেষ ট্রেন ও নৌযান রিজার্ভ করা হয়েছে। থাকছে ১৫টি মেডিকেল বুথ, ৬ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক, ১৫টি পার্কিং স্পট, আধুনিক ক্যামেরায় লাইভ সম্প্রচার, এলইডি স্ক্রিন, ওজু-নামাজের ব্যবস্থা এবং নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর তত্ত্বাবধানে শৃঙ্খলা নিশ্চিতের আয়োজন। সবার জন্য নির্ধারিত পোশাক, দায়িত্বপত্র ও কাজের তালিকাও ঠিক করা হয়েছে।
ঢাকায় সমাবেশ উপলক্ষে চালানো হয়েছে বিশাল প্রচারাভিযান—মাইকিং, লিফলেট, ফেস্টুন, তোরণ, বিলবোর্ডে ভরে গেছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো।
এই সমাবেশে ৭ দফা দাবি উত্থাপন করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে—পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সমান সুযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টসহ অতীতের গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার, ঐতিহাসিক জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার, ও জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন।
দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান সভাপতিত্ব করবেন এবং সভাপতিমণ্ডলীতে থাকবেন কেন্দ্রীয় নেতারা। ফ্যাসিবাদবিরোধী দলগুলোকে ইতোমধ্যেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে—ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, এনসিপি, খেলাফত মজলিসসহ আরও কয়েকটি দল। বিএনপিকে নিয়েও রয়েছে আলোচনা, যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।
জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ইতোমধ্যে সহযোগিতার আবেদনপত্র পাঠানো হয়েছে এবং ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।