রাজবাড়ীতে বিদ্যুতের খুঁটি নিয়ে বিরোধ, চার পরিবারের পথ বন্ধের অভিযোগ

- আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
- ৪৪ বার দেখা হয়েছে


রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বাকসাডাঙ্গী গ্রামে বিদ্যুতের খুঁটি ও লাইন বসানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে চারটি পরিবারের চলাচলের পথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বাড়ির একমাত্র শুকনো প্রবেশপথ বন্ধ থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১৫ জনকে প্রায় এক বছর ধরে পাশের নিচু জমির হাঁটুসমান পানি ও কাদা মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তমছেল মন্ডলের বাড়ির ঘরের ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নেওয়া ও খুঁটি বসানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের আপত্তি উপেক্ষা করে ঘরের ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন টানা হয়। এ নিয়ে সুজন মন্ডল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে কয়েকটি পরিবারের ব্যবহৃত সাধারণ প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয় বলে তারা জানান।
অবরুদ্ধ পরিবারের সদস্য সাগর শেখ বলেন, “আমাদের বাড়ির পথ বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা বন্দী জীবনের মতো অবস্থায় আছি। হাঁটু পানি ভেঙে বাইরে যেতে হয়। আমাদের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।”
সুজন মন্ডল বলেন, “আমার বাড়ির ঘরের ওপর দিয়ে বিদ্যুতের তার টাঙানো হয়েছে। আমি পথের পাশ দিয়ে তার নেওয়ার অনুরোধ করলেও তা মানা হয়নি। পরে পরিবারের সদস্যদের নামে মামলা এবং প্রবেশপথে বেড়া দেওয়া হয়েছে। এখন আমাদের হাঁটু পানি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।”
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এহসানুল হক শিপন উভয়পক্ষকে ডেকে শুনানি করেন। তার দাবি, সেখানে ইসরাফিল ও ইমরান দ্রুত সময়ের মধ্যে বেড়া অপসারণের শর্তে লিখিত মুচলেকা দেন। তবে মুচলেকার পরও বেড়া অপসারণ হয়নি বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।
সরেজমিনে অভিযুক্তদের মধ্যে আকতার বলেন, “আমাদের জায়গায় বেড়া দিয়েছি। আমরা বেড়া সরাব না।” অপর অভিযুক্ত মুক্তি বলেন, “আমাদের নামে মামলা দেওয়ায় আমরা বেড়া দিয়েছি।” বিদ্যুতের তার ঘরের ওপর দিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
নারুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম চুন্নু বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। একটি বিদ্যুৎ খুঁটির জন্য চারটি পরিবারকে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং হাঁটু পানি দিয়ে চলতে বাধ্য করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, “আমি বিষয়টি জানি না, নতুন এসেছি। মুচলেকা দেওয়ার পরও বেড়া অপসারণ না করা আইনের অবমাননা। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।






Leave a Reply