নোটিশ:

ভূরুঙ্গামারীতে সোনাহাট রেলসেতুতে অভিযানে ওভারলোড ও অবৈধ টোল রোধ

প্রতিবেদকের ছবি
মোঃ জাকারিয়া হোসেন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় বুধবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৬৬ বার দেখা হয়েছে
1000189477

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সোনাহাট রেলসেতুর ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণাধীন সেতুর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং অবৈধ টোল আদায় রোধে উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ১২ আগস্ট এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।

ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট সড়কের দুধকুমার নদীর ওপর পুরাতন রেলসেতু দিয়ে ৫০০ সিএফটির বেশি পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ট্রাক মালিকরা নিয়ম অমান্য করে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন করছে। অভিযোগ রয়েছে, ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকার বিনিময়ে একটি প্রভাবশালী মহল এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এছাড়া, প্রতিটি ট্রাক থেকে ৩০-৫০ টাকা করে টোল আদায় করা হয়। সেতুর ট্রাফিক ও টোল সংগ্রহকারীরা স্বীকার করেছেন, প্রায় ১০ বছর ধরে রশিদ ছাড়া এই টোল নেওয়া হচ্ছে। দৈনিক গড়ে ১০০টি ট্রাক চলাচলের হিসাব অনুযায়ী মাসে ৯০,০০০ থেকে ১,৫০,০০০ টাকা এবং বছরে প্রায় ১০-১৮ লক্ষ টাকা আদায় হয়। চারজন ব্যক্তি এই কাজে যুক্ত থাকলেও প্রথমে তারা নিয়োগদাতার নাম অস্বীকার করেছেন। পরে জানিয়েছেন, তারা ‘২৪৮৬ কমিটি’ থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত। স্থানীয়রা জানান, আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ অন্যত্রও যায়। সরকার এখান থেকে কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না।

পুরাতন সেতুটি অতিরিক্ত ওভারলোডের কারণে প্রায়ই পাটাতন ভেঙে যায়। এতে যান চলাচল বন্ধ হয় এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। দুধকুমার নদীর ওপর অবস্থিত এই রেলসেতুটি পণ্য পরিবহন, অসুস্থ রোগী, শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। এছাড়াও সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানিও হয়। সেতুর দুরবস্থার কারণে সরকার বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

পাশাপাশি, পাশের একটি সড়ক সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। তবে ধীরগতির কারণে তা সম্পন্ন হতে আরও দীর্ঘ সময় লাগছে। স্থানীয়দের প্রতিবাদ সত্ত্বেও কার্যকর সমাধান এখনও মেলেনি।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপ জন মিত্র বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সেতুর পাটাতন ভেঙে জনভোগান্তি চলছে। মেরামতে ধীরগতি রয়েছে। নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করতে এবং অন্যান্য সমস্যার সমাধানে আমরা নির্বাহী প্রকৌশলী, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, ট্রাক মালিক সমিতি ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর যৌথভাবে কাজ করব।”

১২ আগস্ট বিকেলে অভিযানের সময় কিছু ট্রাক পর্যবেক্ষণ করা হয়। চালক ও গাড়ির কাগজপত্র যাচাই এবং পণ্যের ওজন পরীক্ষা করে একাধিক ট্রাককে ওভারলোড অবস্থায় পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টদের সতর্কবার্তা প্রদান করা হয়েছে।

অভিযান পরিচালনা করেন কুড়িগ্রাম সেনাবাহিনীর একটি টিম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপ জন মিত্র এবং ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ আল হেলাল মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT