নোটিশ:

উত্তাল পদ্মায় ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয় রাজবাড়ীর চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ

মোঃ জাহিদুর রহিম মোল্লা, রাজবাড়ি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫
  • ১৬১ বার দেখা হয়েছে
Rajbari boat on padma

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের বেতকা ও রাখালগাছি চরাঞ্চলের ১০টি গ্রামের সহস্রাধিক পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ইঞ্জিনচালিত নৌকা। পানপাড়া, কাশেম মোড়, ধারাই, ঢালার চর, আন্নাই, চর দুর্গাপুর, ছাইধুপিয়া, গল্লাগোর, কুমিরপুর ও বড় দুর্গাপুর—এই গ্রামগুলোর প্রায় ৩ হাজার মানুষের জন্য পদ্মা নদী পাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। প্রতিদিন ছোট ভাকলা ইউনিয়নের অন্তরমোড় ঘাট থেকে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার নৌপথে তারা জেলা সদরে আসা-যাওয়া করেন, যা বর্ষাকালে এক থেকে দেড় ঘণ্টা এবং শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ৪০ মিনিট সময় নেয়। প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার যাত্রী ১২টি বড় ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে পারাপার হয়, এর মধ্যে ছোট যানবাহনও থাকে।

দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় জানায়, বেতকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাড়া এ অঞ্চলে নেই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার বা স্থাপনা। ছয় বছর আগে বিদ্যুৎ এলেও চিকিৎসা, সন্তান প্রসব বা জরুরি পরিস্থিতিতে নৌকায় যাত্রা করাই একমাত্র উপায়। প্রতিবার পহেলা বৈশাখে দেবগ্রাম ও ছোট ভাকলা ইউনিয়নের অধীনে খেয়া পারাপারের ইজারা হয়।

নৌকার মাঝি ইছাক শেখ জানান, প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টায় বেতকা-রাখালগাছি সিঅ্যান্ডবি সড়ক থেকে নৌকা অন্তরমোড়ের উদ্দেশে ছাড়ে এবং একই সময়ে অন্তরমোড় থেকেও নৌকা ছেড়ে যায়। বিকেল সাড়ে ৪টায় বেতকা থেকে শেষ ট্রিপ ছাড়ে, সাড়ে ৫টায় ফেরত আসে। একেক গ্রুপে ৪-৬টি নৌকা নির্ধারিত থাকে এবং যাত্রীভাড়া ভাগাভাগি করা হয়। ঝড়বৃষ্টি বা রাতের বেলায় যাতায়াত কষ্টকর, মাঝে মাঝে সন্তান প্রসব বা গুরুতর অসুস্থ রোগী নিয়েও নদী পার হতে হয়।

পাবনার বেড়া এলাকার যাত্রী সুজন সরদার জানান, রাজবাড়ী শহর থেকে ৪০ টাকায় অন্তরমোড় ঘাটে এসে এক ঘণ্টা নৌযাত্রায় রাখালগাছির পাকা সড়কে পৌঁছানো যায়, সেখান থেকে দ্রুত বাড়ি ফেরা সম্ভব।

ইজারাদার মিনাল সরদারের চাচা মো. আনোয়ার বলেন, এ বছর ৭ লাখ টাকায় ঘাট ইজারা নেওয়া হয়েছে। অন্তরমোড়ে যাত্রীদের বসার কোনো ব্যবস্থা নেই, যাত্রীছাউনি করলে উপকার হবে। এছাড়া অন্তরমোড় বাজার থেকে ঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি বেহাল, সংস্কার হলে যাতায়াত সহজ হবে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদুর রহমান বলেন, অন্তরমোড়-বেতকা রুটে প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার মানুষ পারাপার হয়। রাখালগাছি থেকে পাবনার ঢালারচর রেলস্টেশন ও পাকা সড়ক সংযোগ রয়েছে, যা দিয়ে পাবনা, রাজশাহী ও সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। তিনি জানান, ঢালারচর রেলস্টেশন থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের কাজ শেষের পথে। পদ্মার ওপর সেতু হলে রাজবাড়ী ও পাবনা অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও নিউজ

© কপিরাইট ২০২৪-২০২৫ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: NagorikIT